Views: 2

ইরানের তৈরি সস্তা ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এখন ভয়াবহ আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলো ইরানের এই স্বল্পমূল্যের প্রযুক্তির কাছে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। মূলত যুদ্ধের ময়দানে শাহেদ সিরিজের ড্রোনগুলোর ব্যবহার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রচলিত হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।
একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরি করতে ইরান খরচ করে মাত্র ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার। অথচ এই একটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করতে যে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়, তার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলার। এই বিশাল আর্থিক বৈষম্য প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে সামান্য মূল্যের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে তাদের বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই অসম যুদ্ধের বাস্তব চিত্র সম্প্রতি বাহরাইনে ফুটে উঠেছে। মাত্র ৩০ হাজার ডলার মূল্যের একটি সাধারণ ইরানি ড্রোন ধ্বংস করে দিয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি রাডার সাইট। ২০০৪ সাল থেকে কার্যকর এই রাডারটি বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিভাগের প্রভাষক গেইস্ট পিনফোল্ড জানান, শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা এবং সহজে তৈরিযোগ্য হলেও এগুলো প্রতিহত করা কয়েক গুণ বেশি ব্যয়বহুল। আত্মঘাতী এই ড্রোনগুলোর মুখে উপসাগরীয় দেশগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পিনফোল্ডের মতে, এই সংকট নিরসনে দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা আছে—হয় সরাসরি যুদ্ধবিরতিতে যাওয়া, অথবা বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনে আরও সক্রিয় পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া।