Views: 0

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির অন্তত ৩০ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা ইসরায়েলি বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে নি’হত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, অভিযান শুরুর মাত্র এক মিনিটের মাথায় এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারান। ইসরায়েলি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিশাল সামরিক তৎপরতা কেবল শুরু এবং আগামী দিনগুলোতেও হামলার এই ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই সুপরিকল্পিত অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে অত্যন্ত গভীর গোয়েন্দা এবং কৌশলগত সহযোগিতা ছিল। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ইয়োভ লিমোর সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন জনমতের পরিবর্তন এবং সামরিক কৌশল নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য নতুন ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।
এদিকে প্রথম দফার হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই দ্বিতীয় দিনেও ইরানে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এবারের হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল তেহরানে অবস্থানরত প্রশাসনের বাকি শীর্ষ নেতারা। এর বিপরীতে ইরানও ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। বিবিসির প্রকাশিত ছবিতে বাহরাইনের মানামা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলি বন্দরে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদেও নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং ওমানের একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন কর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাতে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ইরানি পাইলটরা ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান আজ শোকাহত হলেও এই শোক তাদের নি’ষ্ক্রিয় করে দেবে না; সর্বোচ্চ নেতাকে হ’ত্যার অপচেষ্টা ইরানি জাতির মনোবল ভাঙতে পারবে না। অন্যদিকে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের আকাশসীমা লক্ষ্য করে ১,২০০ বোমা নিক্ষেপ করেছে। আইডিএফ দাবি করেছে, আকাশপথের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পর তারা ইরানে আরও বিস্তৃত পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে।