Views: 0

রাজশাহীর দিগন্তজোড়া আমবাগানগুলোতে এখন সোনালি মুকুলের সমারোহ। মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের শুরুতে প্রকৃতিতে বসন্তের বারতা নিয়ে আসা এই মুকুল এখন চাষিদের চোখেমুখে জ্বালছে সোনালি আগামীর স্বপ্ন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার রাজশাহীর মোহনপুর, বাঘা, চারঘাট, দুর্গাপুর ও পবাসহ বিভিন্ন উপজেলায় আমগাছগুলো মুকুলে মুকুলে ভরে উঠেছে। বাতাসে ভেসে আসা মুকুলের মৌ মৌ সুবাস বাগান মালিক ও কৃষকদের মনে সঞ্চার করছে এক নতুন উদ্দীপনা।
এ অঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকা ধানের পর সবচেয়ে বেশি আমের ওপর নির্ভরশীল। বাগান মালিকদের ভাষ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। প্রায় প্রতিটি গাছেই উপচে পড়া মুকুল দেখে তারা খুশি হলেও কিছুটা চিন্তিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে। কৃষকরা জানান, মুকুল থেকে গুটি হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু অত্যন্ত সংবেদনশীল। যদি বড় ধরনের ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি না হয়, তবে এবার রেকর্ড পরিমাণ ফলন পাওয়া সম্ভব বলে তারা আশা করছেন।
মুকুলকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে বর্তমানে বাগানগুলোতে চলছে নিবিড় পরিচর্যা। পোকার আক্রমণ ও ছত্রাক দমনে চাষিরা নিয়মিত বালাইনাশক স্প্রে করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ প্রদান করছেন। মানসম্মত ফলন নিশ্চিত করতে ফল পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত কয়েক দফা ওষুধের প্রয়োগ করতে হয়। প্রাকৃতিক বৈরিতাকে মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত মুকুলগুলোকে গুটিতে রূপান্তর করাই এখন বাগান মালিকদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ বছর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। বর্তমানের আবহাওয়া মুকুলের জন্য অত্যন্ত সহায়ক। এই পরিস্থিতি বজায় থাকলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সহজ হবে। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে এ বছর ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার মেট্রিক টন।
উল্লেখ্য যে, দেশের ২৩টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হলেও প্রধান কেন্দ্র হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও সাতক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আমের রাজধানী বলা হলেও নওগাঁ এখন উৎপাদনে অনেক এগিয়ে। আবার সাতক্ষীরার আম সবার আগে পেকে বিদেশে রপ্তানি হয়। রাজশাহীর এই বিপুল সম্ভাবনা যদি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে না পড়ে, তবে এ বছরের বাম্পার ফলন স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।