Views: 0

রাজশাহীর বাঘায় টানা দুই সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয় পাম্পগুলো জ্বালানি শূন্যতার অজুহাতে বন্ধ রাখা হলেও খোলা বাজারে কয়েক গুণ বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই সাধারণ ক্রেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাঘা উপজেলা সদরের একমাত্র পেট্রোল পাম্পটি গত চৌদ্দ দিন ধরে তালাবদ্ধ। মঙ্গলবার সকালে পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেলেও জ্বালানি মেলেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর দুপুরের দিকে তেল আসবে এমন আশায় অনেকেই ভিড় করলেও শেষ পর্যন্ত হতাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার মনিগ্রাম, তেঁতুলিয়া ও আড়ানী এলাকায় অন্তত পাঁচটি জ্বালানি ডিপো থাকলেও সেখানে রাতের আঁধারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোপনে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। গভীর রাতে চড়া দামে তেল সরিয়ে ফেলায় দিনের আলোয় সাধারণ গ্রাহকরা পাম্পে গিয়ে জ্বালানি পাচ্ছেন না।
বর্তমানে বাঘার খোলা বাজারে প্রতি লিটার পেট্রোল ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা এবং অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন শ্রমিক এবং সাধারণ কৃষকরা। বিশেষ করে চলতি বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মোখলেসুর রহমান জানান, পাম্পে তেল না থাকলেও বাইরে চড়া দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে, যা স্পষ্টতই একটি পরিকল্পিত কারসাজি। কৃষক হাবিব জানান, সেচ সংকটে তাদের ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ডিপো মালিকদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ থাকলেও ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সরবরাহ না থাকায় তারা পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। এদিকে এই সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরাই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বাঘা উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে এবং যারা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছে বা মজুদদারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।