Views: 2

সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার রাজপথে আছড়ে পড়েছে। অবহেলিত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কুশিয়ারা নদীর করাল গ্রাস থেকে বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ ও স্থায়ী নদী রক্ষা বাঁধের দাবিতে আয়োজিত বিশাল মানববন্ধনে গ্রামবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনদাবিতে রূপ নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী রাস্তার কারণে গ্রামটির শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কাদা-মাটির রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এর পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও পৈতৃক ভিটেমাটি। ভাঙন আতঙ্কে বিনিদ্র রাত কাটানো স্থানীয়দের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় তারা এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
উক্ত প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান এবং সিরাজপুর কালিরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আশরাফুল আহমদ। মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মো. তোফেল আহমেদ। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা এই সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, রাস্তা ও নদীভাঙন রোধ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। কুশিয়ারা নদীর ভয়াবহতা থেকে গ্রামটিকে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে এবং যাতায়াতের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
আয়োজিত এই মানববন্ধনে বয়সের সীমারেখা মুছে গিয়েছিল। লাঠিতে ভর দিয়ে আসা প্রবীণদের উপস্থিতির পাশাপাশি তরুণদের আকাশ কাঁপানো স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করছেন যে, এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ভাষা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছাবে। তবে দাবি আদায় না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।