Views: 4

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের ওপর ন্যাক্কারজনক সশ’স্ত্র হামলা ও ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী। রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১২টায় মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে আয়োজিত এক বিশাল মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চিহ্নিত স’ন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন। রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো. রহমত উল্লাহর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রেজাউল করিমকে হ’ত্যার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে মাইক্রোবাস ভাড়া করে এই হামলা চালানো হয়েছে। অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে তারা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও দেশ টিভির প্রতিনিধি কাজী শাহেদ, সাবেক সভাপতি আবু কাওসার মাখন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, দৈনিক কালবেলার রাজশাহী ব্যুরো আমজাদ হোসেন শিমুল, রিভারসিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রাব্বানীসহ স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও রাজশাহী প্রেসক্লাব, বৃহত্তর রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হামলাকারীদের দৃ’ষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এমন হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় অন্তরায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, রাজশাহীর শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত বরেন্দ্র প্রেসক্লাব পরিচালনার নামে বেশ কিছু দিন ধরে নুরে ইসলাম মিলন ও তার সহযোগীরা ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জেরে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অ’স্ত্র, চাপাতি ও চাইনিজ কুড়াল নিয়ে একদল স’ন্ত্রাসী ক্লাবে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে সভাপতির মাথায় ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হামলার একপর্যায়ে সুরুজ আলী নামের এক স’ন্ত্রাসী ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি তা প্রতিহত করেন, এতে তার উরুতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শরীরে ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে।
এই ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নুরে ইসলাম মিলন, সুরুজ আলী, মিশালসহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া একটি মাইক্রোবাস জব্দ করেছে। মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।