Views: 0

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় ব্যবসায়িক নিয়’ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় এবং একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গাছা থানার ভূসিরমিল মেম্বার বাড়ি রোড এলাকায় এই ন্যা’ক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্র’স্ত বিএনপি নেতা ও স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই হামলার সাথে জড়িত। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা শিবলুর নেতৃত্বে প্রায় ৭০-৮০ জন নেতাকর্মী দেশীয় অ’স্ত্রে সজ্জিত হয়ে গাছা থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন মিয়ার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা শাহীন মিয়ার ব্যক্তিগত কার্যালয়সহ পাশের বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এসময় কার্যালয়ে থাকা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম মনঞ্জুরুল করিম রনির ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা একটি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে এবং নগদ প্রায় ৭ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, মূলত পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা ও ইন্টারনেট সংযোগের নিয়’ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এই আধিপত্য বিস্তারের লড়াই শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা শাহীন মিয়া জানান, তিনি বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় সকল অনুমোদন নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে ইন্টারনেট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিপক্ষ গ্রুপটি পেশিশক্তির জোরে ব্যবসার নিয়’ন্ত্রণ নিতে এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শিবলুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে এবং লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।