Views: 0

গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার সীমানা নির্ধারণকারী পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে একরাশ হতাশার নাম। দুই বছর আগে সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও যুতসই সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কোনো কাজেই আসছে না। ফলে দুই জেলার প্রায় ১০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এখন কেবল নদীর বুকে এক অকেজো কংক্রিটের কাঠামো হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিঙ্গোয়া বাজার এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আসাদনগর গ্রামের মানুষের পারাপারের সুবিধার্থে ২০২২ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি অদৃশ্য কারণে ঝুলে রয়েছে। দুই পাড়ের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে এখনো নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বর্ষা মৌসুমে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। নদীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে মাত্র এক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে জনপ্রতি ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অচলাবস্থার কারণে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, অদূরদর্শী পরিকল্পনার কারণেই বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে। চোখের সামনে আধুনিক সেতু থাকা সত্ত্বেও কেন তাদের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপার করতে হবে, সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দুই অঞ্চলের মধ্যে সহজ যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা হোক।
যোগাযোগ করা হলে নরসিংদী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফুলকাম বাদশা জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে রিভিশন পর্যায়ে রয়েছে। এই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, জনভোগান্তি নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করা হবে। তবে এলাকাবাসী আর মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং দৃশ্যমান কাজের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।