Views: 0

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার মাহেন্দ্রক্ষণে গাজীপুরের রাবাব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কারখানাটি হঠাৎ লে-অফ ঘোষণা করায় শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও বিষাদ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে কারখানার মূল ফটকে লে-অফ সংক্রান্ত নোটিশ ঝোলানো দেখে হতবাক হয়ে পড়েন কাজে আসা শ্রমিকরা। তাৎক্ষণিকভাবে তারা কারখানা খোলার দাবিতে ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন, যা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
কারখানার ভেতরে কর্মরত প্রায় সাত শতাধিক শ্রমিকের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। শ্রমিক মশিউর রহমান জানান, মালিকপক্ষের সাথে তাদের সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল, কিন্তু চলতি মাসের বেতন বকেয়া থাকা অবস্থায় এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সামনে রোজা এবং এরপরই ঈদ, এমন সময়ে কর্মসংস্থান হারানো মানে পরিবার নিয়ে পথে বসা। শ্রমিকরা বর্তমানে মালিকপক্ষের সাথে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছেন এবং সমাধান না এলে শ্রমিক নেতাদের সাথে পরামর্শ করে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিল্প পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত কয়েক মাস ধরে কাঁচামাল সংগ্রহে জটিলতা এবং বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক অর্ডার বাতিল হয়েছে। নতুন অর্ডারের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কারখানাটি লে-অফ ঘোষণা করা হয়েছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লে-অফ চলাকালীন শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে এবং এই সময়ে নিরাপত্তা কর্মী ব্যতীত অন্য কারোর উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে কারখানাটির ডিজিএম মোহাম্মদ শাহীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বকেয়া বেতন ও আসন্ন উৎসবের খরচ নিয়ে শ্রমিকদের দীর্ঘশ্বাস এখন গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে ভারী হয়ে উঠেছে।