ফাহিম নিজস্ব প্রতিনিধি: গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত কলেজ ছাত্র হৃদয়কে গু‘লি করে হ‘ত্যার ঘটনায় নিহত ওই কলেজ ছাত্রের লা‘শ উদ্ধারে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি থানাধীন কড্ডা ব্রিজ এলাকার তুরাগ নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ডুবুরি দলের সদস্যরা।
নিহত কলেজছাত্র হৃদয় (২০) টাঙ্গাইলের গোপালপুরের আলমগর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে। তিনি হেমনগর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি কোনাবাড়ী এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের একমাত্র আর্থিক যোগানদাতা ছিলেন বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৪জুলাই২০২৫) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উপস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এই উদ্ধারাভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মাসুদ পারভেজ। বিচার বিভাগ সংশ্লীষ্ট দলের সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন ও দিকনির্দেশনা দেন।

সকাল থেকে দুপুর অবদি তুরাগ নদীর প্রায় তিন-চার কিলোমিটার এলাকায় এই তল্লাশি অভিযান চালিয়েছেন ডুবুরি দলের উদ্ধার কর্মীরা। তবে, নদীতে স্রোত থাকার ফলে উদ্ধার কার্যক্রমে বেশ ব্যাগ পেতে হয়। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ- সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন এসব তথ্য জানান। তিনি জানান এ উদ্ধারাভিযানে তেমন কোন আলামত বা বিশেষ কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে এ হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশের এক কনস্টেবলকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ওই কনস্টেবল হলেন মো. আকরাম হোসেন (২২)। তিনি গাজীপুর শিল্প পুলিশের সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কিশোরগঞ্জের পারাইল এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ বিষয়ে আরো জানা গেছে, ৫ আগস্ট হৃদয় কোনাবাড়ী সড়কে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি দেখে হৃদয় রাস্তার এক পাশে অবস্থান নেন। সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন শিল্প পুলিশের কিছু সদস্যরা। তারা হৃদয়কে রাস্তার পাশ থেকে ধরে নিয়ে গীয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে পুলিশের গু‘লিতে সেখানেই তিনি মারা যান।
ওই সময় এ ঘটনায় হৃদয়ের ফুফাতো ভাই ও ভগ্নিপতি (দুলা ভাই) মো. ইব্রাহীম বাদী হয়ে কোনোবাড়ী থানায় একটি হ‘ত্যা মামলা দাখিল করেন। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই আলামত উদ্ধারাভিযান পরিচালিত হয়।
উল্লেখ্য, মামলায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খান, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে হুকুমের আসামি এবং ২৫০-৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।