Views: 0

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন যে, মূলত কতিপয় অসাধু সিন্ডিকেট ও মজুদদার ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, কৃষিখাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সরকার সেখানে নিরবিচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে। তবে বাজারে তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই দাবি করে তিনি বলেন, এক শ্রেণির মানুষ আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান যুদ্ধাবস্থা কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাবেই বাংলাদেশের চারপাশে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। শামা ওবায়েদ দাবি করেন, বিএনপি সরকার জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। তবে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সকলকে জ্বালানি ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সরকারি দায়িত্ব পালনে নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, তা পালনে তিনি নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় আসছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি সালথা ও নগরকান্দার বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গত ১৭ বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার গুরুত্বারোপ করছে বলে তিনি জানান।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সালথা বাজারে অ’গ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্র’স্ত পাটের গোডাউন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।