Views: 0

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় কৃষির চিরাচরিত ধারায় পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। ধান, গম, পেঁয়াজ ও শাকসবজির প্রথাগত আবাদের পাশাপাশি এখন লাভজনক ফসল হিসেবে তুলা চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকরা। মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের অনুকূলে থাকায় এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এই অঞ্চলে শ্বেত সোনা হিসেবে পরিচিত তুলা চাষে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা।
আড়ানী এলাকায় তুলা চাষের প্রচলন দীর্ঘদিনের হলেও এতদিন তা অন্যান্য ফসলের ভিড়ে অনেকটা আড়ালে ছিল। তবে বর্তমানে বাজারে তুলার ব্যাপক চাহিদা এবং আকর্ষণীয় বাজার মূল্য দেখে নতুন অনেক কৃষক এই চাষে উৎসাহী হচ্ছেন। স্থানীয় অভিজ্ঞ চাষিরা জানিয়েছেন, তুলা চাষে শ্রম ও পরিচর্যা যেমন কম লাগে, তেমনি অল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। মূলত কম খরচে বেশি আয়ের নিশ্চয়তাই কৃষকদের এই ফসল চাষে আগ্রহী করে তুলছে।
রাজশাহী জোনের আড়ানী কটন ইউনিট অফিসার মোঃ হোসেন আলী জানান, এই অঞ্চলের মাটি তুলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত চাষীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও আধুনিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তুলা চাষের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আড়ানী এলাকায় এটি একটি শক্তিশালী বিকল্প ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব, যা স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় বর্তমানে ৩০০ জন তুলা চাষি রয়েছেন। চলতি মৌসুমে দুই উপজেলা মিলে মোট সাড়ে ৬৫০ বিঘা জমিতে তুলার আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে বাঘাতেই রয়েছে ২০০ বিঘা। এ বছর এই অঞ্চল থেকে প্রায় ৩ হাজার মণ তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লাভজনক এই চাষাবাদ সফল হলে আগামীতে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।