Views: 1

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গাছা থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দস্যুতা মামলার দুই প্রধান আসামীসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ল্যাপটপ, সিপিইউ এবং দেশীয় অ’স্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল উ’দ্ধার করে পুলিশ। উ’দ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দিবাগত রাত ৩টার দিকে গাছা থানাধীন ইয়াকুব আলী মার্কেট সংলগ্ন ‘মেসার্স শাফিন প্যাকেজিং এন্ড প্রিন্টিং প্রাঃ লিঃ’ নামক প্রতিষ্ঠানে এক দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনা ঘটে। দস্যুরা প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড মিজানুর রহমানকে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে র’ক্তা’ক্ত জখম করে এবং দামী ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের বিশেষ নির্দেশনায় এবং গাছা থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির আধুনিক সহায়তা গ্রহণ করে। এরপর গত ১২ মার্চ ২০২৬ রাত ২টার দিকে দক্ষিণ কলমেশ্বর এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে দস্যুতার সাথে সরাসরি জড়িত ২ জন এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রাহুল খান নামের একজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক, নারী ও শি’শু নির্যাতন এবং পর্নোগ্রাফি আইনসহ মোট ৭টি মামলা রয়েছে। অপর আসামী মোঃ শাকিল হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে গাছা এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করছিল।
অভিযানের সময় পুলিশ আসামীদের হেফাজত থেকে ল্যাপটপ, কম্পিউটারের সিপিইউ, ডিভিআর, কি-বোর্ডসহ দস্যুতায় ব্যবহৃত ধারালো ছোরা ও পেপার কাটার চাকু উ’দ্ধার করে। এছাড়াও মাদক ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত মোঃ ওমর ফারুক, শান্ত সরদার, মাসুদ রানা ওরফে ল্যাংরা মাসুদ, রিফাত কাজী, জনি হোসেন, সাদেকুর এবং আব্দুল বারেক নামের আরও ৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গাছা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন। জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। গ্রেফতারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।