Views: 0

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে, জনরায় নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, তার দল শান্তিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের সংঘাত বা বিবাদের পথে হাঁটতে চায় না। দেশে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার সঠিক তদন্ত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
রাজশাহীর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পদ্মা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের দাবি। ধানের শীষের সরকার ক্ষমতায় এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমানের সূচিত বরেন্দ্র প্রকল্পের আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশ ও এই অঞ্চলকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। শিক্ষানগরী রাজশাহীর শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আইটি পার্ককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা এবং আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার ও বিশেষ কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের গণতন্ত্র রক্ষার চূড়ান্ত লড়াই হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালু করা হবে। দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর মানুষের সামনে সশরীরে উপস্থিত হতে পেরে আবেগাপ্লুত তারেক রহমান বলেন, জনগণের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। দেশ গড়ার মূলমন্ত্র নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। দুপুরের আগেই জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়, যা ঘিরে পুরো রাজশাহী শহরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।