Views: 0

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন কুনিয়া তারগাছ এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ছু‘রিকাঘাতে নি‘হত হয়েছেন মারুফ (২২) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় তার বন্ধু জামিল (২৪) গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ হ‘ত্যাকা‘ণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতা রবি ও সহযোগী সাব্বিরকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে (১৯:১৫ ঘটিকা), গাছা থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেলাল নগর রোডে আক্তারের বাড়ির সামনে। নি‘হত মারুফ ওই এলাকার মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে, আর আহত জামিল একই এলাকার আতাউল্লাহর ছেলে, যিনি স্থানীয় একটি সিগারেট কোম্পানিতে চাকরি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় জামিল দোকানে গেলে এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং সদস্য রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন দেশীয় ধারালো অ‘স্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। তাদের বেপরোয়া আচরণের প্রতিবাদ করলে রবির সঙ্গে জামিলের তর্কাতর্কি হয়। বিষয়টি শান্ত করতে জামিলের বন্ধু মারুফ সেখানে গেলে রবি ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে দুজনের ওপর এলোপাতাড়ি ছু‘রিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহতদের উ‘দ্ধার করে তারুন্নেসা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মারুফকে মৃ‘ত ঘোষণা করেন, এবং গুরুতর আহত জামিলকে প্রথমে ইসলামিক হাসপাতালে পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের লা‘শ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত জামিলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবি, রনি, সাগর, সাব্বিরসহ অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে।”
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোঃ জাহিদুল হাসান বলেন, “হ‘ত্যাকা‘ণ্ডের মূল হোতা রবিউল ইসলাম ওরফে সিগমা রবি (২৪)-কে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া এলাকা থেকে এবং এজাহারনামীয় দ্বিতীয় আসামি সাব্বির হোসেন (১৮)-কে গাছা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, রবি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সেবন, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় তাদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিল। হ‘ত্যাকা‘ণ্ডের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এলাকাবাসী দ্রুত বিচার এবং কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।