গাজীপুর মহানগরীর গাছা ও বোর্ডবাজার এলাকায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলা এনএসআই কার্যালয়ের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বমোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানসূত্রে জানা যায়, গাছা থানার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বগারটেক এলাকায় অবস্থিত নাফ এগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় প্রথম অভিযান চালানো হয়। সেখানে পণ্যের মোড়কজাতকরণ সংক্রান্ত তথ্যের অনুপস্থিতি এবং মিল্ক টি পণ্যে নানা অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। এসব অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান আজিজুল হক (৩৯)-কে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে বোর্ডবাজারের খাইলকুর বটতলা রহম আলী রোডের তৌহিদ ফুড প্রোডাক্টস বিপণন কেন্দ্রে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অন্য স্থান থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে মোড়কজাত করার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সোহাগ আলী (২৪)-কে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে গাছা মধ্যপাড়া এলাকার কিং পাওয়ার ব্যাটারি কারখানায় পরিদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন লঙ্ঘন, মোড়কে বাংলা ভাষার ব্যবহার না করা এবং উৎপাদনস্থল সম্পর্কে চীনা ভাষায় ‘চীনে তৈরি’ উল্লেখ করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদানের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এসব অনিয়মের জবাবে ব্যাটারি কারখানাটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর নিশাত এবং বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক চিন্ময় বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে এই ধরনের গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে আইনিভাবে জেল-হাজতে পাঠানোর বিধান থাকলেও কাউকে কারাগারে পাঠানো হয়নি। পাশাপাশি ব্যাটারি কারখানায় কর্মরত এক চীনা নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষযেও তাৎক্ষণিক কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং বাজারে পণ্যের মান নিশ্চিত করতে এই ধরনের তদারকি অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে।