গাজীপুর মহানগরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড ইশ্বড্ডা মল্লিকবাড়ী, ডেগেরচালাসহ পার্শ্ববর্তী বিশাল এলাকা জুড়ে মিন্টু খান ওরফে ‘ছোট মিন্টু’র অপরাধমূলক সা’ম্রা’জ্য ও দাপটে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। স্থানীয়দের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমান খানের ছেলে এই ছোট মিন্টু দীর্ঘদিন যাবত বেপরোয়া ছিনতাই, অনিয়’ন্ত্রি’ত মাদক ব্যবসা এবং উঠতি বয়সী কিশোরদের নিয়ে একটি ভয়ংকর কিশোর গ্যাং পরিচালনা ও লালন-পালন করে আসছেন। এলাকায় নিজের প্রভাব ও একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে তিনি গড়ে তুলেছেন সুসংগঠিত একটি অপরাধী চক্র। এমনকি একজন পেশাদার সাংবাদিককে ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা ও ছিনতাইয়ের মতো একাধিক গুরুতর অপরাধে তার বি’রু’দ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও তার অপরাধমূলক দৌরাত্ম্য থামেনি, যার ফলে চরম নিরাপত্তার হীনতায় ভুগছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
গুরুতর এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে দেখা যায়, অপরাধচক্রের নির্মম প্রতিশোধ ও নানামুখী হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে চরম আতঙ্কবোধ করছেন। স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান যে, প্রকাশ্যে অপরাধমূলক কর্মকা’ণ্ড প্রত্যক্ষ করলেও নিজেদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার তাগিদে কেউ প্রতিবাদ করার দুঃসাহস পান না। বিশেষ করে উঠতি বয়সী কিশোরদের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ঠেলে দিয়ে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহার করায় পুরো ওয়ার্ডজুড়ে গভীর উদ্বেগের সৃ’ষ্টি হয়েছে। মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা ও ছিনতাইয়ের উপদ্রবে তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ায় আইনশৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবিলম্বে প্রত্যক্ষ, নিরপেক্ষ ও সমন্বিত হস্তক্ষেপ দাবি করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা।
সাংবাদিকের ওপর স’ন্ত্রা’সী হামলা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল মামলার বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযুক্ত মিন্টু খানের বিষয়ে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সংগৃহীত হয়েছে। তার অপরাধী গ্রুপের সাথে জড়িত তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং মূল হোতা ছোট মিন্টুকে গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তের বক্তব্য গ্রহণের জন্য তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চে’ষ্টা করা হলেও সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলে এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও সামাজিক নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার আকুল আকুতি জানিয়েছেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের আত’ঙ্কগ্র’স্ত বাসিন্দারা।