গ্রামবাংলার আবহমান লোকজ সংস্কৃতি ও হারানো ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজশাহীর বাঘায় আড়ম্বরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উপজেলার গড়গড়ী ইউনিয়নের বেংগাড়ী বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীর পাড়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ আয়োজনের শুভ সূচনা করা হয়, যা আগামী শনিবার (১০ অক্টোবর) পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আয়োজনের প্রথম দিনেই নদীর দুই কূলে উৎসুক জনতার উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদচারণায় পুরো উৎসবপ্রাঙ্গণ মুখরিত ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আকর্ষণীয় অর্থ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজক কমিটি নিশ্চিত করেছে।
বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এস এম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর সুযোগ্য সন্তান ও হাজী আব্দুস সাত্তার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান অলিভ। উদ্বোধনী পর্বে বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নৌকাবাইচের রোমাঞ্চকর পরিবেশের পাশাপাশি নদীর তীরজুড়ে বসেছে সুবিশাল গ্রামীণ মেলা। মেলায় শতাধিক রকমারি স্টল স্থান পেয়েছে, যেখানে মৃৎশিল্প, দৃষ্টিনন্দন খেলনা, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন, কুটিরশিল্প ও নিত্যপ্রয়োজনীয় রকমারি পণ্যের পশরা সাজানো হয়েছে। প্রতিযোগিতার টানটান উত্তেজনার সঙ্গে মেলার এই বর্ণিল আয়োজন দর্শনার্থীদের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আয়োজক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, একসময়ের বহুল জনপ্রিয় নৌকাবাইচ কালের বিবর্তনে প্রায় বিলুপ্তির পথে। কনিষ্ঠ প্রজন্মের কাছে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরার অভিপ্রায়েই এই মূল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ডাবলু সরকার জানান, বিলুপ্তপ্রায় লোকজ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা এবং তরুণ প্রজন্মের নিকট তুলে ধরাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। জনমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে সার্থক রূপ দিয়েছে। সভাপতি তোজাম্মেল হক আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতেও দর্শনার্থীদের এই ধারাবাহিক ভিড় ও উচ্ছ্বাস বজায় থাকবে।
উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেরাজুল হক জানান, উৎসবপ্রাঙ্গণে সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্য নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।