গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় কথিত স্বা’মী-স্ত্রী’র মধ্যকার তীব্র বাগ্বিতণ্ডা, সংঘর্ষ ও ধারালো অ’স্ত্রে’র আঘাতে বিল্লাল মিয়া (৩৪) নামে এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় ফরিদা বেগম (৩৮) নামে এক নারী গু’রুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাছা থানাধীন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফকির মার্কেট সংলগ্ন কাউন্সিলর রোডের শাহাবুদ্দিনের মালিকানাধীন ভাড়া বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত বিল্লাল মিয়া জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার আজমতপুর এলাকার তুলু মিয়ার ছেলে। তিনি মহানগরের কুনিয়া এলাকার মাসুদুর রহমানের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। অন্যদিকে, গু’রুতর আহত ফরিদা বেগম ভোলা জেলার রতনপুর থানার নবিপুর গ্রামের মৃ’ত হোসেনের মেয়ে এবং তিনি ঘটনাস্থল শাহাবুদ্দিনের বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আহত ফরিদা বেগমের ইতিপূর্বে একাধিক বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানও রয়েছে। তবে গত আট মাস পূর্বে নারায়ণগঞ্জে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে কথিত স্বা’মী-স্ত্রী’র সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সোমবার সকালে সেই ভাড়া বাসায় বিভিন্ন বিষয়ে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে তা র’ক্ষক্ষ’য়ী সংঘ’র্ষে রূপ নেয়। ধারালো অ’স্ত্রে’র উপরি-উপরি আঘাতে উভয়েই র’ক্তা’ক্ত ও গুরুতর আহত হন।
হ’ত্যা’কা’ণ্ডের প্রকৃত নেপথ্য কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানামুখী গু’ঞ্জ’ন তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এই র’ক্ত’ক্ষ’য়ী ঘটনার পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। ঘটনার পর মুমূর্ষু বিল্লাল মিয়াকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিরা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং লা’শ রেখে চম্পট দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তারা গিয়ে তল্লাশি চালিয়ে নিহতের পকেটে থাকা কাগজপত্র ও মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী গাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিম উদ্দীন জানান, নিহতের গলা ও পেটে একাধিক ধারালো অ’স্ত্রে’র গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অপরদিকে, র’ক্তা’ক্ত ফরিদা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথমে তাইরুননেছা মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
ঘটনার বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী জানান, নারায়ণগঞ্জে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিল্লাল ও ফরিদার সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল। ফরিদা বেগমের ভাড়া বাসায় বিল্লাল দেখা করতে এলে এ হ’ত্যা’কা’ণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং ঘটনার নেপথ্য কারণ, আঘাতের ধরন ও অন্য কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।