শারদীয় দুর্গোৎসবে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ইতিবাচক বার্তা নিয়ে গাজীপুরের টঙ্গী বাজার মন্দির পরিদর্শন করেছেন সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত সোমবার রাতে তাঁরা মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা চলমান দুর্গাপূজার সার্বিক পরিবেশ, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ কে এম আজিজুল হক, সহসভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবাল, সহসাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসমাইল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত হোসেন কামাল (খান), সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম জুয়েল, দপ্তর সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এম বিল্লাহ শিশির ও কনটেন্ট থিয়েটার হাসান আহমদসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিলেট থেকে আসা কমিশনের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক জুবের আহমদ (সার্জন)-ও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
মন্দিরে পৌঁছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা টঙ্গী বাজার মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস এবং সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র ঘোষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সঙ্গে পূজামণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে শারদীয় দুর্গোৎসবের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। দুর্গাপূজার যাবতীয় আয়োজন সুচারু ও সুন্দর পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। গণমাধ্যম কমিশনের নেতৃবৃন্দের আগমনে মন্দির কমিটির প্রতিনিধিরা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
মতবিনিময়কালে গণমাধ্যম কমিশনের নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবেই এক অনন্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুদৃঢ় ভূখণ্ড। বহু বছর ধরে এ দেশের সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্মান, ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধ ধরে রেখে নিজ নিজ ধর্মীয় আনন্দ উৎসব উদযাপন করে আসছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বাঙালি সংস্কৃতি, মূলবোধ ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নেতৃবৃন্দ আরও জানান, দুর্গোৎসব যাতে সম্পূর্ণ বিঘ্নহীন ও আনন্দমুখর वातावरণে শেষ হতে পারে, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ সমন্বয় অপরিহার্য। উৎসবের আবহ সর্বস্তরে ছড়িয়ে দিতে সামাজিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। বর্তমানে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় আবেশে টঙ্গী বাজার মন্দিরসহ আশপাশের মণ্ডপগুলোতে দর্শনার্থী ও ভক্তদের ব্যাপক সমাগমে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে এই আনন্দযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।