তথ্য সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে এক তরুণ গণমাধ্যমকর্মীর পথরোধ করে প্রকাশ্যে শার্টের কলার ধরে টানাটানি, গলা চেপে ধরা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার এক চা’ঞ্চ’ল্যকর অভিযোগ উঠেছে সাথী আক্তার নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অশুভ চক্রের নির্মম হেনস্তার শিকার হয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ সাইফুল ইসলাম (২২)। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা এই জিডি নম্বর ৫০৭০ এবং জিডি ট্র্যাকিং নম্বর OMKX8G।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, অভিযুক্ত সাথী আক্তার, তার দুই বোন সুমাইয়া ও তানজিলা এবং তাদের বাবা মাসুম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক হানিট্র্যাপ, কাবিন সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়ম ও আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে নতুন বিবাহের মতো বেশ কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহু অভিযোগ পাচ্ছিলেন ওই সাংবাদিক। এসব চা’ঞ্চ’ল্যকর খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাথী আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে পরিচিত ইসমাঈল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেন সাইফুল। কিন্তু তথ্য সংগ্রহ শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতেই পথিমধ্যে তার ওপর আকস্মিক চড়াও হন অভিযুক্ত সাথী আক্তার।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, পথ আটকে সাথী আক্তার প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে সাইফুলের শার্টের কলার চেপে ধরে গলা টিপে শ্বাসরোধের চে’ষ্টা করেন। এ সময় তাকে প্রকাশ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। উপস্থিত সাইফুলের এক সহকর্মী ও ইসমাঈলের হস্তক্ষেপে তিনি সাময়িকভাবে রক্ষা পান। পেশাগত সততার প্রমাণস্বরূপ ঘটনার মুহূর্তগুলো মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে সাথী আক্তার অত্যন্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রাখেন। ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে সাথীকে বলতে শোনা যায়, “তোর ইসমাঈল বাপে যেন তোকে বাঁচায়।” এসব অকাট্য ভিডিও প্রমাণ বর্তমানে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাঈল জানান, সাথী ও তার বোনেরা দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর কৌশলে ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহ করে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করেছিলেন সাথী। এমনকি বিয়ের এক বছর পর প্রকাশ পায় সাথীর আগের গোপন বিয়ের খবর। পরবর্তীতে দাম্পত্য বিরোধের জেরে সাথী ও তার বোন সুমাইয়া তাকে শারীরিক নির্যাতন চালান এবং এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার স্পর্শকাতর অঙ্গে ধারালো অ’স্ত্র দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক জখম করেন। এসব বিষয়ে ন্যায়বিচারের আশায় ইসমাঈল নিজেও গাজীপুর সদর থানায় দুটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একটি নির্দিষ্ট প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে জিম্মি করে আসছে। সত্য অনুসন্ধানে নামায় এর আগেও অভিযুক্তদের বাবা মাসুম ও সুমাইয়া তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে তিনি ঘটনার সু’ষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃ’ষ্টা’ন্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে অভিযুক্ত সাথী আক্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চে’ষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে গাজীপুর সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সোহেল মুফতি জানিয়েছেন, সাধারণ ডায়েরির অনুলিপি হস্তগত হয়েছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।