গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে পুলিশের একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ২০ জন মাদকসেবীকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তুরাগ নদের তীরবর্তী ঐতিহ্যবাহী হাজী মাজার বস্তি এলাকায় এই যৌথ সাঁড়াশি অভিযানটি পরিচালিত হয়।
পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ যৌথভাবে এই বিশাল অভিযানে অংশ নেয়। আইন-শৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে পুরো মাজার বস্তি এলাকা অবরু’দ্ধ করে মাদক সেবনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ওই ২০ জনকে আটক করতে সক্ষম হন তারা। তবে আটককৃতদের থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে এক জটিল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বস্তির বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা ও উৎসুক জনতা আচমকা পুলিশ সদস্যদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালায়।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আ’ত্মরক্ষা এবং আসামিদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ বাধ্য হয়ে পরপর ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে স্থানীয় জমায়েত ছত্রভ’ঙ্গ করে দেয়। বিকট শব্দে সাউন্ড গ্রেনেড বি’স্ফোরণের পর স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দিক-বিদিক ছুটোছুটি শুরু করেন। এই আকস্মিক ঘটনার পর মাজার বস্তি ও এর আশপাশের বাজারের ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে নিজেদের দোকানপাট ব’ন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান। পরবর্তীতে আইন-শৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে আটককৃতদের টঙ্গী পশ্চিম থানায় স্থানান্তর করে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে। আসামি আটকের পর হঠাৎ বিপুল জনসমাগম তৈরি হওয়ায় আইন-শৃ’ঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড বি’স্ফোরণ ঘটিয়ে লোকজনকে ছত্রভ’ঙ্গ করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে, জিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, জিএমপি কমিশনারের বিশেষ নির্দেশনায় মহানগরীকে মাদকমুক্ত করতে এই জোরালো মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। জনস্বার্থে এবং মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে এই সাঁড়াশি অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।