রাজশাহীর বাঘায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক সেবনরত অবস্থায় হাতেনাতে আটক হওয়া এক যুবককে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ০৪/০৭/২০২৬ তারিখে বাঘা থানা পুলিশের বিশেষ প্রসিকিউশনের প্রেক্ষিতে এই দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির অন্ধকারে নিমজ্জিত ওই যুবকের এমন পরিণতিতে এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উক্ত যুবকের মাদকাসক্তির ভয়াবহতা পরিবারটিকে এক চরম বিপর্যয়ের মুখে দাঁড় করিয়েছিল। তার মায়ের বয়ান অনুযায়ী, নেশার ঘোরে ছেলেটি সারাক্ষণই চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় জীবনযাপন করত। মাদক ক্রয়ের অর্থের জোগাড় করতে কয়েকদিন আগে সে ঘরের তোষকের নিচের খাট পর্যন্ত বিক্রি করে দেয়। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উৎস থেকে ধার-দেনা করা, মাদকের টাকার জন্য নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকে মারতে উদ্যত হওয়া এবং ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে দেওয়া ছিল তার প্রাত্যহিক আচরণ। এমন দুর্বিষহ ও অতিষ্ঠ পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ইতিমধ্যেই বাপের বাড়ি চলে গেছেন। সন্তানের এমন চরম অবক্ষয় ও অত্যাচারে দিশেহারা হয়ে বাবা-মা নিজেই এখন তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।
তবে এই নির্মম বাস্তবতার মাঝেও মাতৃত্বের এক চিরন্তন ও আবেগঘন রূপ ফুটে উঠেছে। পুলিশ যখন সাজাপ্রাপ্ত যুবককে আইনি প্রক্রিয়ায় গাড়িতে তুলছিল, তখন সেই ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ মা-ই সমস্ত কষ্ট ভুলে পরম মমতায় এগিয়ে এসে নিজের সন্তানকে শেষবারের মতো পানি খাইয়ে দিচ্ছিলেন। বিচার ও মমতার এই অদ্ভুত দোলাচল উপস্থিত সবাইকে আপ্লুত করে তোলে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বাঘা থানা পুলিশ জানায়, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত তাদের এমন অসংখ্য বিচিত্র ও হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়। মাদক কেবল কোনো একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো একটি পরিবার, সমাজ ও যুবসমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও উল্লেখ করে, এই মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি দূরীকরণে প্রতিটি পরিবারকে সবার আগে সর্বোচ্চ সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পাশাপাশি বাবা-মা ও সন্তানের মধ্যে একটি সুন্দর, আস্থার ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সন্তানের আচরণগত হঠাৎ কোনো পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে কি না, সে কার সঙ্গে মেলামেশা করছে এবং সন্ধ্যার পর কেন অকারণে বাইরে অবস্থান করছে— এই বিষয়গুলোতে কঠোরভাবে নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। মাদকের এই ভয়াবহতাকে কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা না করে, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে পুলিশের আইনি তৎপরতার পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।