গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদারের পক্ষ থেকে মাদক ও সংঘব’দ্ধ অপরাধের বি’রুদ্ধে কঠোর নির্দেশনা জারির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। মহানগরের দাক্ষিণ খান পূর্বপাড়া এলাকায় জনবসতির আড়ালে একটি ভাড়া করা শেডে গড়ে তোলা দেশীয় মদের কারখানায় ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ। চার ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত অত্যন্ত গোপনীয় এই অভিযানে ৬০ লিটার উৎপাদিত দেশীয় মদ, মদ তৈরির রাসায়নিক ও কাঁচামাল ভর্তি ২৯টি ড্রাম এবং মদ উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সর’ঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত ৯টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত ডিবি পুলিশের এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুরো অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (দক্ষিণ) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মিজানুর ইসলাম। মূলত মহানগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত দাক্ষিণ খান পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়ি মসজিদের পাশের একটি নির্জন শেডকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালায় গোয়েন্দা দল।।
অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া শেড ভাড়ার চুক্তিপত্র পর্যালোচনা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় ১০৫০ বর্গফুটের এই শেডটি মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাড়া ও ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম জামানতে দুই বছরের জন্য চুক্তি করা হয়েছিল। চুক্তিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, শেডের প্রকৃত মালিক সদর মেট্রো থানার বাসিন্দা এ. কে. এম. শফিকুল কবির। অন্যদিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে নাম রয়েছে মোঃ কামরুজ্জামান মিরাজের, যার বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার কোষাবর গ্রামে। তবে ভাড়াটিয়ার জমা দেওয়া জাতীয় পরিচয় পত্রটি পুলিশের কাছে চরম সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। চুক্তি মোতাবেক ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই জায়গাটিতে অবৈধ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
আইনশৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, জনচক্ষুর আড়ালে থাকা এই শেডটিতে দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত গোপনে ও পরিকল্পিতভাবে দেশীয় মদ উৎপাদন এবং তা বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। ডিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই চক্রের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বি’রুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিএমপি কমিশনারের ঘোষিত “জিরো টলারেন্স” নীতির আওতায় মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও ভেজাল পণ্য উৎপাদনসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধের বি’রুদ্ধে এই ধারাবাহিক চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। আবাসিক এলাকায় মদের কারখানার সন্ধান পাওয়া এবং তা সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনাটি মহানগরে অপরাধ দমনে পুলিশের আপসহীন অবস্থানেরই একটি বড় প্রমাণ।