পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গাজীপুর মহানগরের ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের একেবারে কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি পশুর হাট। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসানো এসব হাটের কারণে একদিকে যেমন তীব্র যানজটের শঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে রাতের আঁধারে চরম নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পশুর বেপারি ও খামারিরা। মহাসড়ক সংলগ্ন এই হাটগুলোর কারণে কোরবানির পশুবাহী ও সাধারণ যানবাহন চলাচল ইতিমধ্যেই মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে শুরু করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাতের বেলা মহাসড়কের পাশে গড়ে ওঠা নির্দিষ্ট কিছু হাট কমিটির লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নিচ্ছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা পশুবাহী ট্রাক কিংবা নসিমন-করিমন দেখলেই তারা সেগুলোর গতিরোধ করছে। এরপর চালক ও বেপারিদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং জোরপূর্বক গাড়ি থেকে গরু নামিয়ে নিজেদের হাটে তুলতে বাধ্য করছে। এই চক্রের এমন আগ্রাসী ও বেআইনি আচরণের কারণে দূরপাল্লার পশুবাহী ট্রাকের চালক ও খামারিদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন বেপারি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা নির্দিষ্ট কিছু বড় হাট কিংবা ঢাকার স্থায়ী ও বড় হাটগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতে তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে গরু নামিয়ে নেওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। নির্দিষ্ট গন্তব্যের হাটে পৌঁছাতে না পারা এবং স্থানীয় হাটের সিন্ডিকেটের কারণে পশুর সঠিক দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় এখন তারা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়া থেকে আসা এক বেপারি নিজের ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ঢাকার গাবতলী বা অন্য কোনো বড় হাটে যাওয়া। কিন্তু রাতে গাজীপুরে তাদের গাড়ি থামিয়ে জোর করে স্থানীয় হাটে নামানো হয়েছে। এখানে হাসিল বা খাজনা অনেক বেশি, অথচ সেই তুলনায় ক্রেতা অনেক কম। ফলে তারা এখন পুঁজি হারানোর চরম ঝুঁকিতে আছেন। তার মতো আরও অনেক বেপারিই এখন গাজীপুরের এসব অবৈধ হাটে আটকে পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কের পাশে পশুর হাট বসানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় এবং এটি উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এতে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুলাংশে বেড়ে যায়। তার ওপর রাতের বেলা এভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে জোরপূর্বক গাড়ি থামানো স্পষ্ট চাঁদাবাজি এবং আইনশৃ’ঙ্খলার চরম লঙ্ঘন। এ বিষয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কঠোর টহল এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এখনই ব্যবস্থা না নিলে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে বিশৃ’ঙ্খলা ও ব্যবসায়ীদের লোকসান এড়ানো সম্ভব হবে না।
মহাসড়কের নিরাপত্তা রক্ষা এবং পশুর বেপারিদের স্বাধীনভাবে ব্যবসা করার পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। গাজীপুরের মহাসড়কগুলোতে অবিলম্বে আইনশৃ’ঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করে এই অরাজকতা বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।