পুলিশের গু’লি ও গোলাবারুদের সক্ষমতার হিসাব কষেই গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যু’ত্থানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যু’ত্থান দিবস’ উপলক্ষে আন্দোলনে আহতদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, অভ্যু’ত্থানের এই সুনির্দি’ষ্ট পরিকল্পনাটি কারো না কারো দূরদর্শিতার ফসল। পুলিশ কতদিন আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে এবং তাদের গোলাবারুদ ও গুলির সামর্থ্য কতদিন পর্যন্ত থাকবে, সেই নিখুঁত হিসাব কষেই পুরো কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই হিসেব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে গণমাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, আন্দোলন ৬ আগস্টের পরিবর্তে ৫ আগস্টেই বাস্তবায়িত হবে।
অতীতের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, যে স্থান থেকে আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ও আসিফ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, ঠিক তার কিছুক্ষণ আগেও তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের অবদানকে শ্র’দ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও তরুণরা সামনে থেকে গু’লি খেয়ে যু’দ্ধ করেছেন, আর তাদের মতো অনেকেই পেছন থেকে এই যুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই আন্দোলনে আহতদের সরকারি বিভিন্ন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার গু’রু’ত্বপূর্ণ ঘোষণাও প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যু’ত্থানের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান, গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন এবং আন্দোলনে আহতদের প্রতিনিধিরা। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটির শেষপর্যায়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদ, আহত ও সমগ্র দেশবাসীর সার্বিক কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়, যা পরিচালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।