পুরো একটি বছর অতিবাহিত হলেও সহকর্মী হারানোর গভীর ক্ষত এতটুকু শুকায়নি, আর থমকে যায়নি ন্যায়বিচার আদায়ের সোচ্চার ক’ণ্ঠ। সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন নৃশংস হ’ত্যাকা’ণ্ডের এক বছর পূর্তিতে আবারও গভীর ক্ষোভ, অসীম বেদনা এবং অপরাধীদের দ্রুত শা’স্তির দাবিতে একত্রিত হয়েছেন ক্ষু’ব্ধ সাংবাদিক সমাজ। শুক্রবার (০৭-০৮-২০২৬ তারিখ) সকালে গাজীপুর সিটির চান্দনা চৌরাস্তার ‘তুহিন চত্বরে’ বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও তীব্র প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে মামলাটি দ্রুত নি’ষ্পত্তি করার জোর দাবি জানানো হয়। বাবার হ’ত্যার বিচার চাইতে এসে ব্যানারের সামনে চত্বরে বসে পড়েছিল তুহিনের ৬ বছরের নি’ষ্পাপ শি’শুস’ন্তান তৌকির, যার উপস্থিতি প্রতিটি মানুষের হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
কর্মসূচির প্রধান ব্যানারে স্প’ষ্ট ও বড় অক্ষরে লেখা ছিল— “৭ আগস্ট সাংবাদিক তুহিন হত্যার এক বছর, বিলম্ব নয় দ্রুত বিচার আইনে বিচার করতে হবে।” ঠিক এক বছর পূর্বে এই একই স্থানে দিনের আলোতে নির্মমভাবে প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল সাংবাদিক তুহিনের। র’ক্তঝরা সেই স্মৃতি বুকে ধারণ করে দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই যখন সংবাদকর্মীরা ব্যানার হাতে সারিবদ্ধ হন, তখন পুরো পরিবেশজুড়ে নেমে আসে এক ছায়ানিবিড় শোকের আবহ। উপস্থিত সবার চোখেমুখে ছিল যেমন স্বজন হারানোর বেদনা, তেমনি কণ্ঠে ছিল অন্যায়ের বিরু’দ্ধে কঠিন ক্ষোভ।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একজন সাংবাদিককে হ’ত্যা করা মানে কেবল কোনো ব্যক্তি বা একটি পরিবারকে ধ্বংস করা নয়; বরং তা সমগ্র স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সাধারণ মানুষের সত্য জানার মৌলিক অধিকারের ওপর এক নগ্ন হামলা। জনসমক্ষে একজন সংবাদকর্মীকে হ’ত্যা করার পর তার বিচারে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ কোনো সু’স্থ সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। তারা তুহিন হ’ত্যা মামলাটি অবিলম্বে দ্রুত বিচার আইনের আওতায় নিয়ে এসে দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করার এবং দায়ীদের সর্বোচ্চ দৃ’ষ্টা’ন্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানান।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. তাওহীদ হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, ঢাকা জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল কাশেম তালুকদার এবং কেন্দ্রীয় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতা সিকান্দার আলী বাবুল।
সাংবাদিক নেতারা একবাক্যে ঘোষণা দেন যে, তুহিন হ’ত্যার এক বছর অতিক্রান্ত হলেও তাদের প্রতিবাদী রাজপথের সংগ্রাম থামবে না এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একই সাথে তারা সংশ্লি’ষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিচারবিভাগীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই লড়াই কেবল তুহিনের জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি সংবাদকর্মীর নিরাপত্তা, সম্মান ও সুবিচারের অধিকার রক্ষার লড়াই। তুহিন হ’ত্যার বিচার না হলে গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার প্রশ্নটি চিরকাল উত্তরহীন রয়ে যাবে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশে যুগ যুগ ধরে চলা সাংবাদিক হ’ত্যার বিচারহীনতার কুখ্যাত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসেছে। এই মামলার একটি দৃ’ষ্টা’ন্তমূলক রায় ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের জন্য একটি কড়া বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এদিকে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, দেশে বহু সাংবাদিক হ’ত্যার ঘটনা ধামাচাপা পড়ে থাকলেও আসাদুজ্জামান তুহিন হ’ত্যা মামলার গতি ও সাক্ষ্যগ্রহণ আশা জাগাচ্ছে। এই বিচার সম্পন্ন হলে তা বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এবং সমগ্র দেশ ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় চেয়ে আছে। সব মিলিয়ে, এক বছর আগের সেই র’ক্তা’ক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে আবারও ধ্বনিত হলো একটিই জোরালো দাবি— দ্রুত বিচার ও পূর্ণ ন্যায়বিচার।