গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রহীন তিনটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আচমকা অভিযান চালিয়েছে র্যাব ও জেলা প্রশাসন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বমোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি দুইজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সাথে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বুধবার গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-নাহিন নিশাতের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, র্যাব-১ এর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে পরিচালিত হয় এই তদারকি।
তদন্তকালে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো হালনাগাদ লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছিল না। অনিয়মের দায়ে গাজীপুর অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৬০ হাজার টাকা এবং কোয়ালিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর বাইরে, ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই এক্স-রে মেশিন পরিচালনার অপরাধে এক টেকনিশিয়ানকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অন্যদিকে, চরম জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, উক্ত প্রতিষ্ঠানে একজন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দীর্ঘদিন যাবৎ ভুয়া চিকিৎসক সেজে রোগী দেখতেন এবং নিজস্ব প্যাডে ইচ্ছেমতো উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দিতেন। ভুয়া ডাক্তার সেজে রোগীদের সাথে প্রতারণা ও বেআইনিভাবে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার দায়ে সেই মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে ৫ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় মডেল ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দেয় প্রশাসন।
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নূর-নাহিন নিশাত জানান, জনস্বাস্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে এ জাতীয় প্রতারণা ও অনৈতিক ব্যবসা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। সাধারণ মানুষের স্বা’স্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উক্ত অভিযানে র্যাব-১ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আইনশৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।