Views: 0

গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই জনসভায় মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি রাত ১১:৪৫ মিনিটে তিনি উপস্থিত হন। নির্ধারিত সময় সন্ধ্যা ৭টা হলেও পথিমধ্যে তীব্র যানজট এবং নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে তার পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর গাজীপুরের মাটিতে তারেক রহমানের এই সশরীরে উপস্থিতি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে অভাবনীয় উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হওয়ায় জনসভাস্থল ছাপিয়ে রাজপথ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল মানুষের ঢল।
জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান এবং শিল্পখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে। গাজীপুরকে দেশের “গার্মেন্টসের রাজধানী” হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, এখানকার কঠোর পরিশ্রমী শ্রমিকরাই জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। গার্মেন্টস শিল্পের আধুনিকায়নের পাশাপাশি নতুন নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন যে, তাদের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয় বরং মানুষের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করা। তার মতে, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র কখনোই টেকসই হয় না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তিনি জনগণের হারানো ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং ভোটারদের কোনো প্রকার ভীতি ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য গাজীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উক্ত জনসভায় গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন। তারা হলেন গাজীপুর-১ আসনের মো. মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের এম. মঞ্জুরুল করিম রনি, গাজীপুর-৩ আসনের অধ্যাপক ড. এস.এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-৪ আসনের শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং গাজীপুর-৫ আসনের একেএম ফজলুল হক মিলন। এছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠ পরিণত হয় এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায়।