সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গাজীপুরের গাছা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ইমতিয়াজ মুজতবা খান (তুষার)-এর বিরুদ্ধে ঝুট ব্যবসা নিয়’ন্ত্র’ণ, চাঁদা দাবি এবং ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের ওপর হামলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। এসব সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও কড়া নিন্দা জানিয়ে তিনি এক প্রতিবাদলিপি প্রদান করেছেন।
প্রতিবাদলিপিতে তুষার উল্লেখ করেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং তাঁর দীর্ঘদিনের সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবেই এই ধরনের বানোয়াট অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রকৃত সত্য ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্র যাচাই ছাড়াই এমন সংবাদ প্রচারে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রতি কেজি ঝুটের বিপরীতে তিন টাকা করে চাঁদা দাবির যে কথা বলা হচ্ছে, অভিযোগকারী তার স্বপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা আইনি প্রমান উপস্থাপন করতে পারেননি। ঠিক কখন, কার কাছে এবং কীভাবে চাঁদা চাওয়া হয়েছে, সে সংক্রান্ত কোনো যৌক্তিক ভিত্তি অভিযোগটিতে নেই। একইভাবে শ্রমিকদের মারধর কিংবা অ’স্ত্রের ভয় দেখানোর অভিযোগকেও সাজানো নাটক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের মনগড়া দাবির পক্ষে কোনো ভিডিও ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেই।
নিজের সুদীর্ঘ ব্যবসায়িক ইতিহাস তুলে ধরে তুষার জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতার অনুগ্রাহক বা ‘লাইনম্যান’ হিসেবে নয়, বরং নিজের প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আলম এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে লুইটেক্স ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেডের ঝুট ও ওয়েস্ট ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর এই ব্যবসার স্বপক্ষে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্সসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর সরাসরি লিখিত চুক্তি ছিল এবং সেই অনুযায়ী পণ্য ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হতো।
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর চুক্তিপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে নবায়ন না হলেও তাঁর ছোট ভাই ইশতিয়াকের মাধ্যমে লুইটেক্সের সঙ্গে নিয়মিত ব্যবসায়িক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে। এমনকি এর সপক্ষে গত রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত লেনদেনের হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্টও তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এমতাবস্থায় তড়িঘড়ি করে অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের কাছে এই ব্যবসা হস্তান্তরের চক্রান্তকে তিনি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।
একতরফা তথ্য প্রকাশের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তুষার বলেন, কয়েকটি গণমাধ্যম তাঁর কোনো বক্তব্য বা ব্যাখ্যা না নিয়েই শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে একপেশে সংবাদ প্রচার করেছে। কোনো সংবাদের সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রকাশ করা সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান নীতি হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। পরিশেষে, তিনি সংবাদমাধ্যমগুলোকে ভিত্তিহীন প্রচার বন্ধ করে নিরপেক্ষ নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার জোর আহ্বান জানান।