গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকায় অবস্থিত মেট্রিক্স স্টাইল লিমিটেড নামক একটি পোশাক কারখানায় এক ভয়াবহ অ’গ্নিকা’ণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বহুতল ভবনটির ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের যৌথ ও নিরলস প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়’ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এই আকস্মিক ও ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার (১৩ জুন) সকাল পৌনে ১০টার দিকে হঠাৎ করেই কারখানার ভেতর থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। তবে ছুটির দিন কিংবা শিফটের কারণে ঠিক কোথা থেকে এবং কীভাবে আ’গুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারখানার অভ্যন্তরে তীব্র ধোঁয়া দেখে চারদিকের মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ভোগড়া ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সংবাদ পাওয়ার পরপরই ফায়ার ফাইটাররা দ্রুততম সময়ের মধ্যে উ’দ্ধার ও আ’গুন নিয়’ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করেন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. মামুন জানান, সকাল ১০টা ৫ মিনিটে ভোগড়া ফায়ার স্টেশন থেকে তারা প্রথম অ’গ্নিকা’ণ্ডের সংবাদ পান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ভোগড়া ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উ’দ্ধারকাজ শুরু করে। তবে আক্রান্ত স্থানটি একটি বড় শিল্পকারখানা এবং আ’গুনের উৎস ভবনের ষষ্ঠ তলা হওয়ায় দ্রুত তীব্রতা বৃদ্ধির বড় আশঙ্কা তৈরি হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে দ্রুত জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশন থেকে আরও তিনটি ইউনিটকে জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
সহকারী পরিচালক আরও উল্লেখ করেন, ষষ্ঠ তলায় পোশাক কারখানার বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি ছিল। তীব্র তাপ এবং ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করেন। চার ইউনিটের টানা ও সমন্বিত তৎপরতায় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে আগুনের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়। এরপর দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের নিরলস চেষ্টার পর বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে আ’গুন সম্পূর্ণ রূপে নিয়’ন্ত্রণে আসে। আ’গুন নিয়’ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে গাছা থানার পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কী পরিমাণের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আ’গুন নির্বাপনের পর ঘটনাস্থল বিশদভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।