দেশের ভবন ও অবকাঠামো খাতকে পরিবেশবান্ধব এবং সর্বোচ্চ জ্বালানি-দক্ষ করে গড়ে তোলার প্রয়াসে এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমেরিকান সোসাইটি অব হিটিং, রেফ্রিজারেটিং অ্যান্ড এয়ার-কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স (ASHRAE) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মূল উদ্যোগে রবিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এ সমাবেশ আয়োজিত হয়। সভায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও নীতি-নির্ধারকেরা উপস্থিত থেকে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত খাতকে টেকসই করার প্রতি জোর তাগিদ জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. সোলাইমান হায়দার। মূল বক্তার বক্তব্যে ASHRAE-এর Regional Vice-Chair for Government Affairs (Region-at-Large/RAL) জনাব আবদুল্লাহ মাহমুদ বহুমাত্রিক কারিগরি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। উক্ত আলোচনা সভায় পরিবেশ, জ্বালানি, প্রকৌশল ও অবকাঠামো খাত সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ASHRAE বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট মো. এরশআদ জামান খান, প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট মো. হাসমতুজ্জামান, ভাইস-প্রেসিডেন্ট শেখর চন্দ্র বিশ্বাস এবং জেনারেল সেক্রেটারি জুয়েল দাস।
সভার বিশ্লেষণে বক্তারা স্মরণ করিয়ে দেন, জাতীয় জ্বালানি ব্যবহারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই ব্যয় হয় আধুনিক ভবন সমূহে। তাই সুনির্দিষ্ট নকশা, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ, আধুনিক HVAC ব্যবস্থা, সুসংহত শক্তি ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ পরিচালন পদ্ধতির প্রয়োগ বাড়িয়ে ভবনের কার্বন নির্গমন বহুল পরিমানে কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের সামগ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বৈশ্বিক কাঠামোর সমপর্যায়ে রূপান্তর করতে পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি দপ্তর, প্রকৌশলী সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক মহলের সংবদ্ধ ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ASHRAE বাংলাদেশ চ্যাপ্টার দেশীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর সাথে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীর করতে দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সেরা প্রকৌশল চর্চা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভবন ও অবকাঠামো খাতকে কম কার্বন-ঘনত্ব ও টেকসই ধারায় পরিচালনা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সকল অংশগ্রহণকারী গ্রিন বিল্ডিং, শক্তি দক্ষতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিশদ মতবিনিময় করেন, যা সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।