কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে এক নারী গৃহবধূর বসতবাড়িতে হামলা, গেট ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির চা’ঞ্চ’ল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রধান নির্দেশদাতা হিসেবে স্থানীয় ৫ নম্বর যশোদল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনের নাম উঠে আসায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃ’ষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী মোছা. রাবিয়ার (৬২) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্বামীহারা রাবিয়া সদর থানার মনোহরপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। অভিযোগ মতে, প্রধান অভিযুক্ত মো. আলমগীর হোসেনের প্রত্যক্ষ হুকুম ও ইশারায় মো. আলী ইখতিয়ার খান (৫০) সহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোটা ছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে রাবিয়াকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অ’স্ত্র দিয়ে বসতঘরের প্রধান স্টিলের গেটে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তা ভেঙে ফেলে। আকস্মিক এই হামলায় ভীতিস’ন্ত্ৰ’স্ত হয়ে বৃদ্ধা রাবিয়া ঘরের দরজা ভেতর থেকে তালাবদ্ধ করে কোনোমতে নিজের প্রাণ রক্ষা করেন।
ঘটনা ঘটিয়ে চম্পট দেওয়ার আগে অভিযুক্তরা রাবিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে পুলিশ বা আদালতের দ্বারস্থ হলে পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, দাবি করা টাকা পরিশোধ না করলে ঘরবাড়ির মালামাল লুটপাটসহ বসতভিটা দখলের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
এদিকে, দেশে আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নামধারী ওই নেতা কীভাবে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং আইনশৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে এমন অপরাধ ঘটাচ্ছেন—তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। অনতিবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আসামিদের আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
কিশোরগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রাপ্ত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে ইতোমধ্যে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছেন এক উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা।