গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাছা থানাধীন কলমেশ্বর-বোর্ডবাজার সড়ক এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ মানিক নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় বাদলের চামড়ার দোকানের সামনে ইটের রাস্তার ওপর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযান শেষে গাছা থানার এসআই মো. আল আমীন বাদী হয়ে ধৃত ব্যক্তির বি’রু’দ্ধে এজাহার দাখিল করেন এবং পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়’ন্ত্র’ণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে এই আইনানুগ পদক্ষেপের পর পুলিশ সদস্যদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃ’ষ্টি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মাদকবিরোধী অভিযানকে বিতর্কিত করা এবং পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার উদ্দেশ্যে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রকাশ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে মানিককে ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পর গ্রেফতারকৃতকে ছাড়িয়ে নিতে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের ওপর চাপ সৃ’ষ্টি করতে একটি চক্র তৎপর হয়ে ওঠে। এ বিষয়ে সরেজমিনে কথা বললে গ্রেফতার মানিকের বাবা তৈয়েবুর রহমান জানান, পুলিশ তার ছেলেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করার পর কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে তাকে ছাড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তিনি দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চক্রটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এদিকে আইনশৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বি’রু’দ্ধে অপপ্রচার চালানো প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিমত, মাদকবিরোধী সফল অভিযানের পর পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর অযাচিত চাপ বা কুৎসা রটানো হলে সাধারণ পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে, যা চলমান অপরাধ দমন কার্যক্রমকে ব্যাহত করবে। পুলিশের তরফ থেকে স্প’ষ্ট করা হয়েছে যে, অপরাধীকে গ্রেফতারের পর আইনগত প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি, পুলিশকে হয়রানি কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশকে হয়রানি, টাকা দাবি ও অপপ্রচারের ঘটনাগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বিধায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনা উদঘাটনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লি’ষ্ট সচেতন মহল।