গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ডেগেরচালা এলাকায় ১১ বছর বয়সী ৪র্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধ’র্ষণের অভিযোগে ফারুক মন্ডল (৫৫) নামের এক অটোরিকশাচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শি’শুটির বড় ভাই বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আইনের আওতায় আসা ফারুক মন্ডল নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানার গুপিনাতপুর গ্রামের মৃ’ত বিরু মন্ডলের ছেলে। তিনি বর্তমানে গাজীপুর মহানগরীর শরীফপুর এলাকায় বাচ্চু সরকারের মার্কেটের পেছনে হাফিজ উদ্দিন সরকারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শি’শুটি স্থানীয় ‘গাজীপুর অক্সফোর্ড মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত ফারুক মন্ডল ভুক্তভোগীদের প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাসায় ফিরে ছোট বোনকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পান। কান্নার কারণ জানতে চাইলে শিশুটি জানায়, ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফারুক মন্ডল তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নেন। পরবর্তীতে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে তার ইচ্ছার বি’রুদ্ধে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন চালান।
ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে ফারুক মন্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। এরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি তড়িঘড়ি করে বাসা পরিবর্তন করে আত্মগোপনে চলে যান। স্বজনরা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পরামর্শ এবং ভুক্তভোগী শি’শুর মানসিক সেবা নিশ্চিত করার পর থানায় এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ক্ষিপ্র অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফারুক মন্ডলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল আউয়াল সরদার জানান, অভিযুক্ত ফারুক মন্ডলকে গ্রেফতারের পর তাঁর বি’রুদ্ধে নারী ও শি’শু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামির বি’রুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।