শহরের বিষা’ক্ত কোলাহল নিরসন এবং নাগরিকদের জনজীবন শান্ত রাখার লক্ষ্য নিয়ে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন। এখন থেকে জেলার সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি কোনো যানবাহনেই অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো যাবে না। শব্দদূষণ নিয়’ন্ত্রণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংশ্লি’ষ্ট সকল দপ্তরকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থ রক্ষায় জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত যানবাহনে হর্ন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি যানবাহনগুলোকে ‘হর্নমুক্ত’ চলাচলের আওতায় নিয়ে এসে অনন্য দৃ’ষ্টা’ন্ত স্থাপন করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে জেলার সার্বিক গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনেও এই নিয়ম কার্যকর করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে জেলা কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় পরিবেশ ও শব্দদূষণ রোধে প্রতিটি সরকারি সংস্থাকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার ব্যস্ততম সড়ক ও মহাসড়কের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে সচেতনতামূলক লিপলেট বিতরণ ও প্রচারণা চালান জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। মহাসড়কে চলাচলকারী বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অন্যান্য পরিবহন চালকদের অহেতুক হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সাথে আগামী ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে সমগ্র গাজীপুর জেলাকে হর্নমুক্ত এক শান্ত পরিবেশবান্ধব নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অহেতুক হর্ন বাজানোর প্রতিযোগিতার ফলে গাজীপুরের সার্বিক শব্দদূষণ এখন আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এর প্রত্যক্ষ শিকার হচ্ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, চিকিৎসাধীন রোগী, বয়োবৃদ্ধ এবং সাধারণ পথচারীরা। তাই এই ভয়াবহ দূষণ রুখতে সরকারি গাড়ি থেকে পরিবর্তন শুরু করে পুরো জেলায় হর্ন ব্যবহারের ইতিবাচক শৃ’ঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এই নান্দনিক প্রয়াস।