গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানা এলাকায় এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আটককৃত এক যুবককে আইনি প্রক্রিয়া ব্যতিরেকেই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ভুক্তভোগী মেয়ের বাবার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার ও কিশোরীকে উদ্ধার করে গাছা থানা পুলিশ। তবে পরবর্তীতে থানা প্রাঙ্গণেই উভয় পক্ষের মধ্যকার তথাকথিত সমঝোতার মাধ্যমে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, শনিবার (২৫ জুলাই) গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান অভিযোগের ভিত্তিতে খাইলকুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখান থেকে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি ভেলমন্ট গার্মেন্টসের সুপারভাইজার মাহবুব আলমকে (২৩) আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আটক মাহবুব আলম ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া থানার বাকতা গ্রামের মৃত দুলাল মিয়ার ছেলে।
থানায় নেওয়ার পর অভিযুক্ত মাহবুব আলম দাবি করেন, তিনি এবং একই গার্মেন্টসে কর্মরত ওই কিশোরী গাজীপুর মহানগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি কাজী অফিসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসআই মিজানুর রহমান সংশ্লি’ষ্ট কাজী ইদ্রিস আলীকে বিয়ের মূল রেজিস্ট্রি ভলিউমসহ থানায় তলব করেন।
কাজী ইদ্রিস আলী জানান, বিবাহের সময় কনেপক্ষের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা জন্মনিবন্ধন সনদটি পরবর্তীতে জাল ও অফলাইনে সম্পাদিত (এডিট করা) বলে প্রমাণিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সনদটি অফলাইন হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তা অনলাইনে যাচাই করার কোনো সুযোগ ছিল না। কনে নিজেকে ১৯ বছর বয়সী দাবি করে এবং পরিবার দূরে থাকার অজুহাতে স্বজনদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানায়। পরবর্তীতে এসআই মিজানুর রহমানের কাছ থেকে তিনি নিশ্চিত হন যে কিশোরীর প্রকৃত বয়স মাত্র ১৫ বছর। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্ত মাহবুবের পূর্বেও স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে এবং তিনি মিথ্যা তথ্য প্রদান করে এই অবৈধ বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় থানা থেকে নির্দেশ আসার পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত বৈবাহিক সম্পর্ক বাতিলের (তালাক) প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযুক্তের পক্ষের এক মধ্যস্থতাকারী জানান, তাদের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনো বক্তব্য দিতে নিষেধ করা হয়েছে। আইনি ঝামেলা এড়াতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে কিছু আর্থিক লেনদেন ও ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে বলে তিনি আভাস দেন। এমনকি বিষয়টি চেপে যাওয়ার জন্য সাংবাদিকদেরও অনিয়মজনিত সুবিধার প্রস্তাব প্রদান করা হয়।
সামগ্রিক বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম রাব্বানী জানান, কিশোরীর পরিবার এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করতে সম্মতি জানায়নি। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সামাজিক ভবিষ্যৎ ও পরিবারের আকুল আবেদনের কথা বিবেচনা করে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে একটি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বহাল না থাকায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তীতে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই যুবককে তার অভিভাবকের কাছে এবং মেয়েটিকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।