গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিম্পা নামের দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী বন্দির চাঞ্চল্যকর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারা প্রশাসনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে কারাগারটির জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহারকে অন্য স্থানে বদলি করা হয়েছে। এর আগে দায়িত্বে চরম অবহেলার প্রাথমিক অভিযোগে চারজন কারারক্ষীসহ মোট সাতজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত উল-ফরহাদ গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর থেকে ২১ বছর বয়সী নারী বন্দি রিম্পা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা রিম্পা একটি চুরির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে ওই কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছিলেন।
এই ঘটনার পরদিন কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনাবাড়ী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি কারাগারের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের উদ্দেশ্যে কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অবহেলার সুস্প‘ষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় চারজন কারারক্ষীসহ মোট সাতজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে তদন্তের সামগ্রিক অগ্রগতির ভিত্তিতে সোমবার কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে কারাগারের জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহারকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অন্যত্রে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে গত রোববার (১৯ জুলাই) রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পালিয়ে যাওয়া সেই নারী বন্দি রিম্পাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র্যাব। কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে এই চা‘ঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের চূড়া‘ন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এর সাথে জড়িত অন্যান্য দায়ীদের বি‘রুদ্ধেও প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।