গাজীপুর মহানগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত গাছা থানা রোড এলাকায় প্রচলিত ইমারত নির্মাণ আইন অমান্য করা এবং প্রধান সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে জনদুর্ভোগ সৃ’ষ্টির অপরাধে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (গাউক)।
মঙ্গলবার পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিধি-বিধান না মেনে গড়ে ওঠা পাঁচটি বহুতল ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে জনস্বার্থে পরিচালিত এই কঠোর অভিযানে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ভবন মালিককে নগদ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন সময়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ভবন মালিক ইমারত নির্মাণের প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও নকশার তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর পাশাপাশি তারা জনগু’রু’ত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কের ওপর বালু, ইটসহ বিভিন্ন ভারী নির্মাণ সামগ্রী স্তূপ করে রেখে জনসাধারণের স্বাভাবিক যাতায়াত ও যানবাহন চলাচলে তীব্র বিঘ্ন সৃ’ষ্টি করছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ এর ৩(৫) ধারা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে দোষীদের বিরুদ্ধে এই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে জরিমানাপ্রাপ্ত ভবন মালিকদের মধ্যে মজিবুর রহমানকে ৩৫ হাজার টাকা, আক্তার হোসেনকে ২৫ হাজার টাকা, রবিউল আলমকে ১৫ হাজার টাকা, আসাদকে ১০ হাজার টাকা এবং কুদ্দুস মাস্টারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে জরিমানার বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ভবন মালিকরা। তাদের দাবি, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ভবনের সামনে পর্যাপ্ত জায়গা ছেড়েছেন এবং রাস্তায় সামান্য ইট-বালু রাখা হলেও তাতে যানবাহন বা পথচারী চলাচলে কোনো বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। এরপরও দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে তারা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে দেন।
গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (গাউক) চেয়ারম্যানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এই গুরুত্বপূর্ণ ও জনবান্ধব অভিযানটি পরিচালনা করেন সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান মাহমুদুল হক। অভিযান সমাপ্তি শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, একটি আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে এবং নির্মাণ বিধিমালা অমান্যকারীদের কঠোর বার্তা দিতে গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এই ধরনের উচ্ছেদ, জরিমানা ও সচেতনতামূলক বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।