গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকায় এক নারী উদ্যোক্তা ও তার পরিবারকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ সাজিয়ে ভিডিও ধারণ, সামাজিক মানহানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা ভুক্তভোগী মোসাঃ শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে গাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন—ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকার মোঃ শামছু মিয়ার ছেলে মোঃ বাবুল (৩০) এবং মোঃ আঃ রশিদের ছেলে মোঃ রিপন (২৫)।
অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ডেগেরচালা ফকির মার্কেট এলাকায় একটি অটোরিকশার গ্যারেজ পরিচালনা করে আসছেন, যা তার ছেলে মোঃ শিপন সার্বক্ষণিকভাবে দেখাশোনা করেন। গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ১নং বিবাদী বাবুল ‘জরুরী কথা আছে’ বলে গ্যারেজের ড্রাইভার হানিফসহ আরও কয়েকজনকে ডেকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২নং বিবাদী রিপনকে ডেকে আনা হয়। রিপন ঘটনাস্থলে পৌঁছেই গ্যারেজের চালকদের উদ্দেশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালকদের ‘মাদক সেবনকারী’ এবং গ্যারেজের মালিক শিল্পী আক্তার সেখানে ‘মাদক ব্যবসা’ করেন—এমন মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগী শিল্পী আক্তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, বিবাদীদ্বয় সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সমাজে তাদের ও তাদের সন্তানের নামে মিথ্যা মাদক ব্যবসার অপবাদ দিয়ে চরম মানহানি ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে। পরবর্তীতে এই মিথ্যা অপবাদের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীরা তাদের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়। তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে অভিযুক্তদের ভয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই নারী ও তার পরিবার। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাছা থানা ওসি ওয়াহিদুজ্জামান জানান, অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।