রাজশাহী মহানগরীতে অলৌকিক চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাংবাদিক সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. তানজিলুল ইসলাম (লাইক) নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল কলোনি হাজরাপুকুর এলাকার বাসিন্দা মুরাদ হোসেন (পিতা: নিজাম উদ্দিন) দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি, ঝাড়ফুঁক, পানি পড়া ও অলৌকিক চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন। বাস্তবে মুরাদ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের একজন ভ্যানচালক। চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় একটি মসজিদে কোরআন শেখার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মানুষকে অলৌকিক সুস্থতার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আসছিলেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের কোনো ভিত্তি ছাড়া ঝাড়ফুঁক, অলৌকিক পানি বা গাছের শিকড় দিয়ে ক্যান্সার ও জন্ডিসের মতো জটিল রোগ ভালো করার দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক।
এসব অপচিকিৎসা ও প্রতারণার সত্যতা যাচাই করতে গত ২১ জুলাই ২০২৬ (মঙ্গলবার) রাত ৮টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহে যান এবং প্রামাণিক তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন। তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের জের ধরে পরদিন ২২ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যা ৮টার দিকে নগরীর আল-আরাফাহ একাডেমির সামনে সাংবাদিক তানজিলুল ইসলাম (লাইক)-এর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত মুরাদ হোসেন, তার পিতা নিজাম উদ্দিন এবং তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এলে সাংবাদিক লাইক অল্পের জন্য রক্ষা পান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে আইনি প্রক্রিয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা সাংবাদিক লাইক ও তার পরিবারকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে, যার ফলে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভুক্তভোগী সাংবাদিক তানজিলুল ইসলাম জানান, অনিয়ম ও প্রতারণার সত্যতা তুলে ধরা একজন সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানে পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, মূল ঘটনা ঢাকতে ও অপচিকিৎসার খবর ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত কথিত কবিরাজ মুরাদ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক নাকি তার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিক চাঁদা চেয়েছেন—এমন কোনো তথ্য, অডিও, ভিডিও বা প্রামাণিক দলিল তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। উল্টো সংবাদ সম্মেলনের পরেও সাংবাদিক লাইককে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাপ্ত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।