চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাঢীকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নেছার উদ্দিন ও তার ভাই মিজান উদ্দিন ওরফে রাছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থ আ’ত্মসাৎ, ব্ল্যাকমেইল ও মিথ্যা মামলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ধারাবাহিক হয়রানির প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি ভুক্তভোগী পরিবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। শুক্রবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।
মানববন্ধন চলাকালে ভুক্তভোগী মো. সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নেছার উদ্দিন ও তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন কৌশলে হয়রানি করে আসছেন। পারিবারিক পরিচয়ের সূত্র ধরে নেছার উদ্দিনের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে সাইফুলের বোন আখি আক্তারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় এবং স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে সেই অর্থও আত্মসাৎ করা হয়। সাইফুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা একটি ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে তার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছেন। তাদের পরিবার থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পরও উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, অভিযুক্তদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার স্মারক নম্বর: ৪৪.০০.০০০০.০০০.২২৬. ২৭.০০০২.২৫.৪৩৭। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং মিথ্যা মামলার মাধ্যমে ক্রমাগত হয়রানি করা হচ্ছে। এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
উক্ত মানববন্ধন থেকে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা, আ’ত্মসাৎ করা অর্থ ও স্বর্ণালংকার দ্রুত ফেরত প্রদান, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধের দাবি জানানো হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নেছার উদ্দিন ও মিজান উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।