Views: 2

গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল (ভূমি) অফিসে বর্তমানে সেবার মানে এসেছে আমূল পরিবর্তন। সাধারণ মানুষ এখন কোনো হয়রানি ছাড়াই দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা লাভ করছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মোজাহেরুল হক গত ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট এই সার্কেলে যোগদানের পর থেকেই জনবান্ধব ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপে অতীতের দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বোরগোড়ায় ডিজিটাল ভূমি সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
দাপ্তরিক তথ্য ও সূত্র অনুযায়ী, পূর্বে এই সার্কেলে একটি নামজারি ও জমাভাগ নিষ্পত্তিতে গড়ে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগত। বর্তমান সহকারী কমিশনারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সেই সময় কমিয়ে এখন মাত্র ২০ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে নামজারি সম্পন্ন করা হচ্ছে। এছাড়া বিবিধ মামলা (মিসকেস) ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতাগুলোও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে নিরসন করা হচ্ছে। গত চার মাসে ১০০টিরও বেশি বিবিধ মামলা এবং ২৫টি সীমানা নির্ধারণ মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সময়ে ৪৫০০টির বেশি নামজারি আবেদন মঞ্জুর করার পাশাপাশি ৪ একরেরও বেশি সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সপ্তাহে তিন দিন—মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার নিয়মিত শুনানি গ্রহণ করা হয়।
ভূমি অফিসের প্রবেশপথে টাঙানো তথ্যবোর্ডে এখন সেবার সময়সূচি স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রতি রবিবার জনসাধারণের সাক্ষাৎকার, সোম থেকে বুধবার মিসকেস ও নামজারি আপত্তি শুনানি এবং বৃহস্পতিবার সীমানা নির্ধারণের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অংশগ্রহণকারী সেবাগ্রহীতারা জানান, অতীতে শুনানির অভাবে অনেক মামলা ঝুলে থাকলেও বর্তমান কর্মকর্তার অধীনে দ্রুত রায় পাওয়া যাচ্ছে। টঙ্গী পৌর ভূমি অফিস, কাশিমপুর ও গাছা ভূমি অফিসের আওতাধীন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এই নতুন কর্মতৎপরতা আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অফিসের সকল কর্মচারী ভূমি সেবা সহজীকরণে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সেবা নিতে আসা একাধিক গ্রাহক তাদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মোবাইলে খুদে বার্তা পাওয়ার পর নির্ধারিত তারিখে অফিসে এসে তারা আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছেন। গাছা এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বেগম জানান, তিনি নিজের জমির নামজারি করতে অনলাইনে আবেদন করেছিলেন এবং কোনো প্রকার দালালের সহযোগিতা বা হয়রানি ছাড়াই মাত্র ২৮ দিনে তার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার এই সফল প্রয়োগ টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলে সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে এনেছে।