গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানে সাড়ে চার লাখ টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা এনএসআই (জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা)। অসাধু পন্থায় খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বিপজ্জনকভাবে গ্যাস বিক্রির অপরাধে তিনটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অর্থদণ্ড দেওয়া ও আদায় করা হয়।
অভিযানসূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সালেহুর রহমান এবং জেলা এনএসআই কার্যালয়ের যৌথ দল এই তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিকেলে কোনাবাড়ী থানাধীন আমবাগ ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায় ‘জোস ফুড প্রোডাক্টস’ নামক একটি কারখানায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়, সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং বিএসটিআইয়ের কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়া লোগো ব্যবহার করে বাদামের বার, তিলের নাড়ু ও চানাচুর উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল। এই অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মুজিবুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা তৎক্ষণাৎ আদায় করা হয়।
পরবর্তীতে একই ওয়ার্ডের এম.এম. গার্মেন্টস সংলগ্ন ‘রসরাজ সুইটস’ কারখানায় দ্বিতীয় অভিযানটি চালানো হয়। সেখানে চরম নোংরা পরিবেশে রসগোল্লা, চমচম, রসমালাই ও দইয়ের মতো মিষ্টিজাতীয় পণ্য তৈরি ও পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছিল। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে আদায় করা হয়।
দিনের শেষভাগে কোনাবাড়ী থানাধীন রাজাবাড়ী এলাকায় রুবেল ফিলিং অ্যান্ড সিএনজি স্টেশনে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে গাড়িতে করে সিএনজি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে বিক্রি করে আসছিল। বিপজ্জনক ও বেআইনি এই কর্মকাণ্ডের দায়ে বাংলাদেশ গ্যাস আইন, ২০১০-এর ১৩(গ) ও ১০(জে) ধারায় দুই লাখ টাকা, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় এক লাখ টাকা এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ২০ হাজার টাকাসহ মোট তিন লাখ বিশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিনটি অভিযানে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে জেলা প্রশাসন।