গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন পূর্ব কলমেশ্বর এলাকা থেকে জোবায়দা (১৭) নামের এক একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর মরদেহ উ’দ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কলমেশ্বর এলাকার খানকা রোডের একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার শয়নক’ক্ষ থেকে মরদেহটি উ’দ্ধার করা হয়। নিহত তরুণী টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী এবং কুষ্টিয়া জেলার খোকসা থানার সমশপুর এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা ও নুপুর আক্তার দম্পতির মেয়ে। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে ওই ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিল।
স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় জোবায়দার বাবা ও মা দুজনই নিজ নিজ পোশাক কারখানার কর্মস্থলে ছিলেন। বিকেলে কর্ম’স্থল থেকে মা বাসায় ফিরে মেয়েকে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝু’ল’ন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে জোবায়দাকে নিচে নামান।
ঘটনার পরপরই সহপাঠীদের মধ্য থেকে প্রেমের সম্পর্কে টানাপোড়েন ও ব্ল্যা’কমেইলের চা’ঞ্চ’ল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। এক সহপাঠীর দাবি অনুযায়ী, জিদান নামের এক যুবকের সঙ্গে জোবায়দার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তার কাছে জোবায়দার কিছু সংবেদনশীল ব্যক্তিগত ছবি সংরক্ষিত ছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই সব ছবি ব্যবহার করে তাকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে নিপীড়ন ও ব্ল্যা’কমেইল করা হচ্ছিল। মেসেঞ্জারের বিভিন্ন বার্তা ও কথোপকথনে এ সংক্রা’ন্ত তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সহপাঠীরা জানান, যা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের সৃ’ষ্টি করেছিল।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশের আইনি অনুমতি না নিয়েই মরদেহ একটি অ্যা’ম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার তৎপরতা চালানো হয়। বিষয়টি লক্ষ্য করে স্থানীয় এক বাসিন্দা ও নিহতের সহপাঠীর ভাই জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ তাৎক্ষণিক অবহিত করেন। সংবাদ পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অ্যা’ম্বুলেন্সের গতিরোধ করে এবং মরদেহ হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদ’ন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে পুলিশ নিহতের ওই সহপাঠী ও তার ভাইকে থানায় নিয়ে যায়।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম রাব্বানী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পেয়েই লাশ উ’দ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ময়নাতদ’ন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রাপ্তি এবং নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য ও ডিজিটাল বার্তা পর্যালোচনা করে আ’ত্মহ’ত্যার মূল কারণ উন্মোচন করা হবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদ’ন্ত ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।