পুলিশ কোনো দলের লাঠিয়াল বাহিনী নয়, বরং এটি দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা হিসেবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে তিনি নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন। রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচ ১ম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর ছাত্র-গণঅভ্যু’ত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পাশাপাশি দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। নতুন এক বাস্তবতায় পেশাগত জীবনে প্রবেশ করায় চেইন অব কমান্ড বজায় রেখে বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি। অভিবাদন গ্রহণ শেষে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং উপস্থিত নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
উক্ত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমিমন্ত্রী জনাব মোঃ মিজানুর রহমান মিনু, এমপি, বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল, অ্যাডিশনাল আইজিপি জনাব জি এম আজিজুর রহমান।
বর্ণাঢ্য এই কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মোঃ নূরুল হুদা ভূঁইয়া। তিনি দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্ব স্বরূপ ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড’—এই দুই ক্যাটাগরিতেই শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ, বি, এম মামুন।