গাজীপুরে নিষি’দ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ক্রমাগত ঝটিকা মিছিল, ঝুট ব্যবসা, মাদক কারবার এবং স’ন্ত্রাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় যুব শক্তি ও জাতীয় কৃষক শক্তি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এলাকাটিতে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চলছে উল্লেখ করে এই প্রক্রিয়ার পেছনে আইনশৃ’ঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা এবং স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সংসদ সদস্যের নি’ষ্ক্রিয়তার সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে গাজীপুরের পালের মাঠ মৃধা বাড়ির বরকত স্মরণীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সংগঠক আলী নাসের এসব বি’স্ফোরক অভিযোগ উপস্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, গাজীপুরে নিষি’দ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পুনর্বাসিত করতে পুলিশের একটি অংশ, স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা, ঝুট ও বালু ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি এবং কিশোর গ্যাং সিন্ডিকেট প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে আলী নাসের বলেন, গাজীপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনের চারটিতেই বিএনপির সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও নিষি’দ্ধ সংগঠনের ধারাবাহিক মিছিলের বি’রুদ্ধে তাঁদের কার্যকর কোনো অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে শ্রীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান এবং গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনির নির্বাচনী এলাকায় একের পর এক মিছিল হলেও তাঁরা কোনো প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন স্থানে নিষি’দ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য আনাগোনা এবং বিপুল অর্থায়নে ঝটিকা মিছিল পরিচালনার চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতিবারই ছাড়া পেয়ে যান। বর্তমানে গাছা থানা বিএনপির যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম মন্ডলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগসাজশের বিষয়টিও ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। গাছা, বাসন, রাজেন্দ্রপুর, সালনা ও পুবাইল এলাকায় সংঘটিত মিছিলগুলোর বিষয়ে আগাম তথ্য দেওয়া সত্ত্বেও পুলিশ তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, বরং প্রশাসনের একটি অংশ আর্থিক সুবিধা নিয়ে সহযোগিতা করেছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সম্মেলনে স্থানীয় অর্থনীতি ও অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ চিত্র ফুটিয়ে তুলে বলা হয়, গাজীপুরে ঝুট ব্যবসা, মাদক কারবার, বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নিয়’ন্ত্রণ করছে একটি শক্তিশালী অপশক্তি। এই সিন্ডিকেটের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক আমলাদের যোগসাজশ রয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসে মিছিলে অংশ নিয়ে আবার ফিরে যাওয়ার ঘটনাকে গোয়েন্দা নজরদারির চরম ব্যর্থতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গাজীপুর ও শ্রীপুরের সব সাংবাদিক হত্যার নিরপেক্ষ বিচার দাবি করা হয়।
গাজীপুরে আইনশৃ’ঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে বেশ কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার, জিএমপি কমিশনার, উপ-কমিশনার (উত্তর ও দক্ষিণ) এবং গাছা, বাসন, সদর ও পুবাইল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ওসি ও এসআইদের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিষি’দ্ধ সংগঠনের সদস্য, অর্থদাতা ও মদদদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানান এনসিপি নেতারা।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কৃষক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও জাতীয় যুব শক্তির গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, যুব শক্তির মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাইদুল ইসলাম, গাছা থানার সদস্য সচিব নাফিও পাঠান, গাছা থানার আহ্বায়ক সম্রাট এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের কেন্দ্রীয় সদস্য রাহাত হাসানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।