গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলমেশ্বর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের সশ’স্ত্র হামলায় নারীসহ একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার সময় এক গৃহবধূ ও তাঁর মেয়েকে শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াছমিন (৪৬) বাদী হয়ে গাছা থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন—কলমেশ্বর এলাকার আক্কাছ মন্ডলের ছেলে আকরাম মন্ডল (৩২), তাঁর দুই ভাই শাকিল মন্ডল (২৬) ও সোহেল মন্ডল (৩৫) এবং একই এলাকার বেলায়েত হোসেনের ছেলে মাহফুজ (৫৩)।
অভিযোগ সূত্র জানায়, কলমেশ্বর মৌজায় ভুক্তভোগীর স্বামী মাসুদ খানের ভোগদখলীয় ১১.৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে অভিযুক্ত মাহফুজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ এবং আদালতে দেওয়ানি মামলা (নং-৪২১/২৬) চলমান রয়েছে। গত ২৩ জুলাই সকাল আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অ’স্ত্রে সজ্জিত হয়ে ৮-১০ জন সহযোগীসহ উক্ত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর চে’ষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে ফরিদা ইয়াছমিন ও তাঁর স্বামীর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার একপর্যায়ে আকরাম মন্ডল বাদী ফরিদা ইয়াছমিনের চুলের মুঠি ধরে শ্লীলতাহানি ঘটায়। একই সময় মাহফুজ তাঁর গলা থেকে আনুমানিক ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। অন্যান্য অভিযুক্তরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চে’ষ্টা চালায়। ভুক্তভোগীদের আত্মচিৎকারে তাঁদের মেয়ে আঞ্জুমান (২৪) ও ছেলে রাহুল খান (২৮) এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে। এতে আঞ্জুমান শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির শিকার হন এবং রাহুল গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সটকে পড়ে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দিলে গাছা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর পূর্বেই অভিযুক্তরা গা-ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃ’ষ্টা’ন্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রাব্বানী জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।