গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানাধীন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভূষিরমিল এলাকায় এক জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হ’ত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. আবুল কালাম আজাদ (৪২)। তিনি ‘সাদিয়া জুয়েলার্স’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। রোববার বিকেলে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দোকানের ভেতর থেকে তার মরদেহ উ’দ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবুল কালাম আজাদ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার ভোলাইন গ্রামের নুনু মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূষিরমিল এলাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে জুয়েলারি ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন এবং রাতে ওই দোকানেই অবস্থান করতেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে সুমন মিয়া নামে এক ব্যক্তি আবুল কালাম আজাদের জন্য রাতের খাবার নিয়ে যান। পরদিন রোববার সকালে তিনি খাবারের বাটি ফেরত নিতে এসে দোকানটি বন্ধ দেখতে পান। পরবর্তীতে দুপুর পর্যন্ত দোকানটি ধারাবাহিকভাবে বন্ধ থাকতে দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃ’ষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি নিহতের স্বজনদের অবহিত করেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করে নিহতের ভাই কামাল উদ্দিনসহ স্থানীয় কয়েকজন দোকানের বাইরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মেঝেতে আবুল কালাম আজাদের র’ক্তা’ক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার গলায় ধারালো অ’স্ত্রে’র স্প’ষ্ট আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল।
খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মরদেহ উ’দ্ধার করে এবং প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন), উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম (অপরাধ দক্ষিণ), গাছা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুর রহমান, গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম রাব্বানী এবং পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল আউয়াল সরদার (তদন্ত)-সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আইনশৃ’ঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা সুপরিকল্পিতভাবে আবুল কালাম আজাদকে হ’ত্যা করার পর দোকানের শাটার বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। তবে এই হ’ত্যা’কা’ণ্ডের নেপথ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি স্বর্ণালংকার ও সম্পদ লুটের উদ্দেশ্যে আক্রমণ—তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দোকান থেকে কোনো মালামাল খোয়া গেছে কিনা এবং হ’ত্যা’কা’ণ্ডে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।