গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার জাঝড় সাক্রাউরী এলাকায় এক ১৩ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেটানোর পর আ’গু’নে পোড়ানো লোহার খু’ন্তি দিয়ে ওই শিক্ষার্থীর শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এই নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে আইনশৃ’ঙ্খ’লা বাহিনীর হাতে তুলে দেন। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের নাম মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ (২৬)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার চর মুহুরী এলাকার মাওলানা ওহিস উদ্দিন আহমদের ছেলে এবং সাক্রাউরী এলাকার “আল-মাদ্রাসাতু দারুদ তাকওয়া” মাদ্রাসার শিক্ষক।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিশু বায়েজীদ (১৩) স্থানীয় ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদ্রাসার মাঠে সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় অসাবধানতাবশত এক ছাত্রের পায়জামা খুলে যায়। এই ঘটনার বিচার চাইতে গেলে শিক্ষক মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ বায়েজীদের ওপর চড়াও হন এবং অমানবিক নির্যাতন চালান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা মো. নাজমুল মিয়া জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক বায়েজীদকে কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন, এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে পড়ে যায়। নির্যাতনের একপর্যায়ে আ’গু’নে উত্তপ্ত করা লোহার খুন্তি দিয়ে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঘটনাটি কাউকেও জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেন ওই শিক্ষক।
ঘটনার পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর রাতে বায়েজীদ বাসায় ফিরলে তার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা ও বসতে না পারা দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানায়। ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ক্ষতস্থানে মলম দিতে গেলে বায়েজীদ বাধা দেয়। পরবর্তীতে স্বজনরা জোরপূর্বক পরীক্ষা করতেই পোড়ার স্প’ষ্ট চিহ্ন দেখতে পান। কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয় শিশুটি। সন্তানের মুখ থেকে সব শুনে নাজমুল মিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষকের কাছে কারণ জানতে চান। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক কোনো সদুত্তর না দিয়ে অশালীন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেন। পরবর্তীতে গুরুতর আহত বায়েজীদকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে চরম জনরোষের সৃ’ষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জনতা সাক্রাউরীর মুন্সি মার্কেট এলাকা থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, এই ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।